বীমা খাতের তালিকাভুক্ত ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের জীবন বীমা তহবিল চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ৪ হাজার ১০২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ তহবিলের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিলের পরিমাণ বেড়েছে ১৯৬ কোটি টাকা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যানুসারে চলতি ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বীমা দাবি পরিশোধসহ মোট ব্যয়ের পর উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১৮৯ কোটি টাকায়, আগের হিসাব বছরে একই সময়ে যা ছিল ২৩ কোটি টাকা। এদিকে চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বীমা দাবি পরিশোধসহ মোট ব্যয়ের পর কোম্পানিটির উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪৭ কোটি টাকায়, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭৮ কোটি টাকা।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরেও বিনিয়োগকারীদের একই হারে লভ্যাংশ দিয়েছে ডেল্টা লাইফ। কোম্পানিটির পর্ষদ সমাপ্ত ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ৩০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।
ডিএসইতে গতকাল ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ৭৫ টাকা ৪০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৬১ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৯৩ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।
ডেল্টা লাইফ সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরে ২৫ শতাংশ নগদ, সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরে ২০ শতাংশ নগদ ও সমাপ্ত ২০১৫ হিসাব বছরে ১৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল ডেল্টা লাইফ।
ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।
১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার। এর ৪৮ দশমিক ২৬ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৬ দশমিক ৩৬ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।